• রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করে বসতঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের বহলাডাঙ্গা (হাজীপাড়া) গ্রামে।
    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহলাডাঙ্গা (হাজীপাড়া) গ্রামের মৃত ইস্রাইল মন্ডলের ছেলে মো. বাসি মণ্ডল, মো. বাকি বিল্লাহ মন্ডল ও মো. রাহিম মন্ডল গং সরিষা মৌজার ১৪৬৪ নম্বর খতিয়ানের বিএস ১৪৪৭২ নম্বর দাগের ৭.৫০ শতাংশ এবং একই খতিয়ানের বিএস ১৪৪৭১ নম্বর দাগের ৫.১৬ শতাংশ জমিতে কিছুদিন আগে দোকানঘর ও বসতঘর নির্মাণকাজ শুরু করেন। এ সময় ওই জমির মালিকানা দাবি করে তাদের চাচা এয়ার উদ্দিন (জুলমত মন্ডল) নির্মাণকাজে বাধা দেন।
    অভিযোগ রয়েছে, বাধা উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখায় এয়ার উদ্দিন গত ২১ জানুয়ারি রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিসপি ৩৩/২০২৬ নম্বর মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় আবেদন করেন।
    পরবর্তীতে আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে ১৪৪/১৪৫ ধারা জারির জন্য পাংশা মডেল থানাকে নির্দেশ দেন এবং বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সকল ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার আদেশ প্রদান করেন। সে অনুযায়ী থানা পুলিশ অভিযুক্তদের নোটিশ প্রদান করে।
    শনিবার (১৮ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোকানঘরের নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলেও বসতঘরের পাকা দেয়াল ও ছাউনি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্তরা।
    মামলার বাদী এয়ার উদ্দিন (জুলমত মন্ডল) বলেন, “আমার দাবিকৃত জমিতে জোরপূর্বক নির্মাণকাজ শুরু করলে আমি বাধা দিই। তারা তা না মেনে কাজ চালিয়ে গেলে আদালতের শরণাপন্ন হই। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তারা এখনও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।”
    অভিযুক্তদের একজন রামিম হোসেন বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখলে রেখেছি। নির্মাণকাজ শুরু করলে আমার চাচা জমিটি তার দাবি করে ১৪৪ ধারা জারি করেন। পুলিশ নোটিশ দেওয়ার পর দোকানের কাজ বন্ধ রেখেছি। তবে কিছু পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পেছনের দিকে ঘরের কাজ করছি।”
    এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, “আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হয়েছে। তারা আদেশ অমান্য করে কাজ করছে—এমন তথ্য পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *