রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছাঃ তাজমুন্নাহারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, প্রশাসনিক ফাইল আটকে রাখা এবং নিয়মিত অফিস না করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় শিক্ষকরা। এ ঘটনায় উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় অসন্তোষ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা চত্বরে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে “উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছাঃ তাজমুন্নাহারের বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার, বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ী” লেখা ব্যানার নিয়ে শতাধিক শিক্ষক মানববন্ধনের প্রস্তুতি নেন। তবে পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে কর্মসূচিটি স্থগিত করা হয়।

শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে যোগদানের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিভিন্ন বিল ও প্রশাসনিক ফাইলে স্বাক্ষর দিতে অযৌক্তিক বিলম্ব করছেন এবং অর্থ দাবি করছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্লিপ ফান্ড, কন্টিনজেন্সি বিল, ক্ষুদ্র মেরামত বিল, টাইম স্কেলের বকেয়া, ২০১০ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন সমতাকরণের বকেয়া, বিদ্যুৎ বিল এবং পিআরএল ভোগীদের বিভিন্ন ফাইল দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে।

বিশেষ করে ১১৬ জন শিক্ষকের শ্রান্তি বিনোদন ভাতা কয়েক মাস ধরে তার স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া বদলি প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। চাপড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শম্পা বিশ্বাসের কাছ থেকে বদলির জন্য ৭ হাজার টাকা এবং গাড়াকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশিদুল ইসলামের কাছ থেকে বেতন সমতাকরণের বকেয়া বিল বাবদ ৭৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সপ্তাহে তিন দিনের বেশি অফিস করেন না। অধিকাংশ সময় সোমবার বিকেলে অফিসে এসে বুধবার সকালেই বিদ্যালয় পরিদর্শনের অজুহাতে অফিস ত্যাগ করেন। অনেক সপ্তাহে তাকে অফিসে পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে এবং শিক্ষকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ফোনেও অনেক সময় তাকে পাওয়া যায় না বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বের কর্মস্থলেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল এবং বাসা ভাড়া বকেয়া রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সহকারী শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিবাদ করলে বদলি, শোকজ এমনকি চাকরি থেকে বরখাস্তের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা শিক্ষক সমাজের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছাঃ তাজমুন্নাহারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তবিবুর রহমান বলেন, বালিয়াকান্দিতে একটি তদন্ত কমিটি পাঠানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন এবং ফিরে এসে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

এ ঘটনায় শিক্ষকরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *