প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রথম ধাপে উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চারটি গ্রামের ২ হাজার ২০টি উপকারভোগী পরিবারের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করা হয়।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে পাংশা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মোশাররফ আল মাহমুদ তপসী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশীদ হারুন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ ও রাজবাড়ী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ আলী আহসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং পর্যায়ে পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডকে নির্বাচন করা হয়েছে। এই ওয়ার্ডের ২ হাজার ২০টি পরিবারকে উপকারভোগী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় পরিবারগুলো প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা পাবে এবং ইতোমধ্যে তাদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ৫০০ টাকা পাঠানো হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কার্ড গ্রহণের সময় উপকারভোগীরা খুশি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আগে কখনো এভাবে একসঙ্গে সাহায্য পাইনি। এখন প্রতি মাসে মোবাইলে টাকা পাবো, এতে আমাদের সংসার চালাতে অনেক সুবিধা হবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোশাররফ আল মাহমুদ তপসী বলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর মাত্র এক মাসের মধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড এবং খাদ্য ভাতা কর্মসূচির উদ্বোধন শিগগিরই করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, রাজবাড়ী জেলার নদীবিধৌত অঞ্চলের বিবেচনায় একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনার মাধ্যমে দ্রুত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদ আহমেদ, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।

এ সময় উপজেলার উপকারভোগী পরিবার, জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি ধাপে ধাপে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও সম্প্রসারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *