ব্রেকিং
জানুয়ারি ১১, ২০২৬

admin1234

রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর কলেজপাড়া এলাকায় মাঝরাতে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে সিফাত মন্ডল (১২) নামের এক শিশু। বুধবার (___) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সিফাতকে প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা এখনও শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

সিফাত স্থানীয় শফিকুল ইসলাম মন্ডলের ছেলে এবং আরএসকে ইনস্টিটিউশনের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে একটি মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকারে করে একদল দুর্বৃত্ত বিনোদপুর এলাকার ইনসান নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়িতে ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি পটকার বিস্ফোরণ ঘটায়। বিকট শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে বাইরে বের হন সিফাত ও তার বাবা। এ সময় হঠাৎ একটি গুলি এসে সিফাতের পেটের উপরের অংশে বিদ্ধ হয়। সঙ্গে সঙ্গে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

সিফাতের চাচি রুনা বেগম বলেন,
“রাতে কয়েকজন লোক গেটে এসে ইনসান ইনসান বলে গালাগালি করছিল এবং জানালায় আঘাত করছিল। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনি। তখনই দেখি সিফাত মাটিতে পড়ে গেছে।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিফাতের বাবা শফিকুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“রাত আড়াইটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছেলেকে ভর্তি করেছি। এখনও পুরোপুরি চিকিৎসা শুরু হয়নি। ছেলেটার অবস্থা ভালো নয়। ওর সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই। পাশের বাড়ির ঘটনায় বের হয়ে এমন বিপদে পড়লো—কেন এমন হলো, বুঝতে পারছি না।”

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. রাজীব দে জানান,
“শিশুটিকে গভীর রাতে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার পেটের উপরের অংশে (বক্ষ পিঞ্জরের কাছে) গুলি লেগেছে। সে সময় সে হাইপোভোলেমিক শকে ভুগছিল। প্রাথমিক চিকিৎসায় কিছুটা স্থিতিশীল করা গেলেও গুলির আঘাতে খাদ্যনালিতে ছিদ্র এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের আশঙ্কা থাকায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।”

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান জানান,
“বিনোদপুর এলাকার ইনসান ও শিমুল নামের দুই ব্যক্তির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই শিমুল গ্রুপের লোকজন ইনসানের বাড়িতে হামলা চালায়। ইনসানকে না পেয়ে তারা বাড়ি ভাঙচুর ও গুলি করে। এতে প্রতিবেশী শিশু সিফাত গুলিবিদ্ধ হয়। ইনসান ও শিমুল দুজনই বিভিন্ন মামলার আসামি এবং সন্ত্রাসী প্রকৃতির। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।”


নিউইয়র্কের পরিত্যক্ত একটি সাবওয়ে স্টেশনে শপথ নেন জোহরান মামদানি। ছবি: এএফপি

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাতে শপথ নিয়েছেন জোহরান মামদানি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শহরটির প্রথম মুসলিম হিসেবে মেয়রের দায়িত্ব নিলেন। শপথ গ্রহণের সময় তিনি এক হাত উন্মুক্ত এবং ওপর হাত রেখেছিলেন পবিত্র কোরআনের ওপর।

বৃহস্পতিবার মামদানির অভিষেক অনুষ্ঠানেও পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেওয়ার কথা আছে। নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী পরিচয় দেওয়া মামদানি বুধবার রাতে শপথ নেন পরিত্যক্ত একটি সাবওয়ে স্টেশনে। শপথ পড়ান নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রামা দুয়াজি। শপথগ্রহণের পর সাংবাদিকদের মামদানি বলেন, এটি সত্যিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও সৌভাগ্যের মুহূর্ত।

নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের মেয়াদ হয় চার বছর। মামদানির দপ্তর জানিয়েছে, শপথের জন্য সিটি হলের নিচে অবস্থিত সাধারণ স্থান বেছে নেওয়া হয়েছে কর্মজীবী মানুষের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট তরুণ রাজনীতিবিদ নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার লাগামছাড়া ব্যয় মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছর আগেও প্রায় অচেনা থাকা মামদানি তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে আছে ভাড়া স্থগিত রাখা, সার্বজনীন শিশু যত্ন ব্যবস্থা এবং বিনামূল্যে গণপরিবহন চালু। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক জন কেইন বলেন, নির্বাচন শেষ হলে প্রতীকি রাজনীতির গুরুত্ব সীমিত হয়ে যায়। তখন ভোটারদের কাছে বাস্তব ফলাফলই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মামদানির প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচনের প্রচারের সময় ট্রাম্প মামদানির বিরোধীতা করেছিলেন। যদিও পরে তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়। তবে ভবিষ্যতে এই দুজনের মধ্যে নতুন করে বিবাদ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান অভিযান নিয়ে। নির্বাচনী প্রচারে মামদানি অভিবাসীদের সুরক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বড় পরিসরে একটি অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মামদানি। এতে বক্তব্য দেবেন বামপন্থী রাজনীতির প্রভাবশালী দুই নেতা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও।

সিটি হলের বাইরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪ হাজার অতিথি অংশ নেবেন। সেখানে নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম কোনো মেয়র পবিত্র কোরআনে হাত রেখে শপথ নেবেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শপথের জন্য দুটি কোরআন শরীফ মামদানির পারিবারিক সংগ্রহ থেকে নেওয়া। আরেকটি লেখক আরতুরো শোমবার্গের ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে ওই অবস্থাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। ৮ থেকে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং ৬ থেকে ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।

শীতের প্রকোপে আজ সকাল থেকে নগরের ভেতরে যান চলাচল কম। মানুষের চলাচলও ছিল সীমিত। অনেক দোকানপাট খুলেছে দেরিতে। নগরের জিন্দাবাজার এলাকার মুদিদোকানি খলিলুর রহমান বলেন, সাধারণত তিনি সকাল আটটার দিকে দোকান খোলেন। তবে কয়েক দিন ধরে শীত বাড়ায় সকালবেলা ক্রেতা কম থাকছে। আজ শীত আরও বেশি থাকায় দেরিতে দোকান খুলেছেন।

এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতবস্ত্রের বিক্রি বেড়েছে। কানিজ প্লাজা বিপণিবিতানের শীতের পোশাক ব্যবসায়ী আবু বক্কর বলেন, কয়েক দিন ধরে শীতের কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। সিলেটে সারা বছরই শীতের কাপড় বিক্রি হলেও সাম্প্রতিক ঠান্ডায় বিক্রি প্রায় পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, আজ সিলেটে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। জানুয়ারি সাধারণত শীতের মাস। অতীতে সিলেটে আরও কম তাপমাত্রা রেকর্ড হলেও গত কয়েক মৌসুমে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক কম ছিল।

ঢাকা

পাবলিক প্লেসে ধূমপানে জরিমানা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা, জারি হলো নতুন অধ্যাদেশ

জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত ও তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপতি ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছেন।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে প্রকাশিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জরিমানা পূর্বের ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০০৫ সালের মূল আইনে ব্যাপক পরিবর্তন এনে সংশোধিত অধ্যাদেশে পাবলিক প্লেসের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এখন থেকে সরকারি দপ্তর ও হাসপাতালের পাশাপাশি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেস্তোরাঁ, হোটেল, শপিংমল, পার্ক, মেলা, পরিবহন টার্মিনালসহ ভবনের প্রবেশপথ, বারান্দা ও আশপাশের খোলা স্থানেও ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে।

নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—পাবলিক প্লেসে ‘স্মোকিং জোন’ ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিলুপ্তি। ফলে কোনো গণপরিসরেই ধূমপানের জন্য আলাদা স্থান রাখার সুযোগ থাকছে না।

এছাড়া তামাকজাত পণ্যের মোড়কীকরণেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে সব তামাক পণ্যে ‘স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার বর্তমানের ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষকে ধূমপানে নিরুৎসাহিত করা এবং তামাকজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতেই এই কঠোর ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বার্ষিক আয়ের দিক থেকে বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের ছাড়িয়ে গেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। পেশায় ব্যবসায়ী নুর, বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা। যা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বার্ষিক আয়ের চেয়েও বেশি।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) নুরুল হক নুরের নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, নুরুল হক নুরের ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৬ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে আয় ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬২২ টাকা। অন্যদিকে, তারেক রহমানের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা, ডা. শফিকুর রহমানের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা। বার্ষিক আয়ের দৌড়ে নুর সবার ওপরে থাকলেও মোট সম্পদের হিসাবে এগিয়ে রয়েছেন তারেক রহমান (১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা) এবং ডা. শফিকুর রহমান (এক কোটি ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৪০ টাকা)। নুরের মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪১ টাকা।

সম্পদের বিবরণীতে দেখা যায়, নুরের কাছে নগদ ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ২১৭ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ টাকা জমা রয়েছে। তার কোম্পানি শেয়ারে বিনিয়োগ আছে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অন্যান্য আমানত রয়েছে ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৩১১ টাকা। এছাড়া নুরের ৮২ ডেসিমেল এবং তার স্ত্রী মারিয়া আক্তারের নামে ৩ একর কৃষিজমি রয়েছে। দায় হিসেবে নুরের ৩ লাখ ৮৮ হাজার ১৬০ টাকা দেনা থাকলেও কোনো ব্যাংক ঋণ নেই। নুরের স্ত্রী মারিয়া আক্তার পেশায় একজন শিক্ষিকা, যার বার্ষিক আয় ১ লাখ ৯১ হাজার ৮৮০ টাকা এবং মোট সম্পদ ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা।

পারিবারিক তথ্যে জানা যায়, নুরুল হক নুর তিন সন্তানের জনক এবং তার ওপর নির্ভরশীল হিসেবে বাবা-মা ও ভাই-বোন রয়েছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে ৬টি মামলা চলমান থাকলেও এর আগে ৮টি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন নুর। জোটগত সমঝোতার কারণে এখানে বিএনপি কোনো প্রার্থী না দিলেও সাবেক বিএনপি নেতা হাসান মামুন স্বতন্ত্র হিসেবে এবং গণঅধিকার পরিষদের শহিদুল ইসলাম ফাহিমও এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।


রাজবাড়ীর কালুখালীতে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের এক্সেল ভেঙে যাত্রীবাহী নসিমনকে ধাক্কা দিলে আলমাস আলী (৩৫) নামে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আরও আটজন আহত হয়েছেন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে রাজবাড়ী–কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকটি রাজবাড়ী থেকে পাংশার দিকে যাচ্ছিল। পথে ট্রাকটির এক্সেল ভেঙে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা নসিমনকে ধাক্কা দিলে নসিমনের যাত্রী আলমাস আলী ট্রাকচাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পরে হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় চার ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিমেন্ট সরিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত আলমাস আলী গোয়ালন্দ উপজেলার ছব্দুল খা পাড়ার বাসিন্দা।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন—রিয়াদ (১৩), আকলিমা (১৭), লিজা বেগম (৩০), ইয়াসমিন (১১), সিয়াম (১২), কমেলা বেগম (৪৬), আক্কাস (৩৫) এবং জামিরুল (৪৫)। তাদের রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নসিমনচালক মুকুল জানান, তারা নাটোর থেকে আলমাস আলীর পরিবার নিয়ে গোয়ালন্দে আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে সাইনবোর্ড এলাকায় ট্রাকটির এক্সেল ভেঙে গিয়ে তাদের নসিমনকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পাংশা হাইওয়ে থানার ওসি মাকসুদুর রহমান মুরাদ বলেন, “ট্রাকের এক্সেল ভেঙে নসিমনের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

                                                                           ছবি : সংগৃহীত

আতশবাজির আলো, উচ্চ শব্দের গান আর রাতজুড়ে উচ্ছ্বাসে যখন শহরগুলো নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, তখন প্রশ্ন ওঠে—একজন মুমিন এই রাত কীভাবে কাটাবেন? সময়ের স্রোতে ভেসে গিয়ে অনুকরণ আর উন্মাদনায় মেতে ওঠা, নাকি আত্মসংযম ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলা?

ইংরেজি নববর্ষকে ঘিরে বাংলাদেশেও ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপনের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে এই রাত বিনোদনের নয়; বরং আত্মসমালোচনা, তওবা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই বছরের সূচনালগ্নেই পুরো বছরের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা একজন সচেতন মানুষ এবং একজন মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব।

ফুক্বাহায়ে কেরাম বলছেন, মুসলিমের জন্য ইংরেজি নববর্ষ পালন কোনো কল্যাণকর বিষয় নয়। বিশেষ করে খ্রিষ্টানদের অনুকরণে গড়ে ওঠা নতুন বছর বরণের পদ্ধতি মুসলমানদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির অংশ নয়; বরং তা স্পষ্ট অপসংস্কৃতি। ইংরেজি বছরের শুরুতে ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ পালন করাকে ইসলাম সমর্থন করে না। এ রাতে বর্ষবরণের নামে যেসব অনৈতিক ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে তরুণ সমাজ জড়িয়ে পড়ে, তা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ এবং শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন।

এ ধরনের বিশৃঙ্খল সংস্কৃতি থেকে বিরত থাকতে কোরআন ও হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসরণ করবে, কখনো তার সেই আমল গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সুরা আলে ইমরান : ৮৫)

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির আচার-আচরণ ও কৃষ্টি-কালচার অনুসরণ করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত বিবেচিত হবে।’(সুনানে আবু দাউদ : ২৭৩২)

কোরআনের অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘প্রত্যেক জাতির জন্য আমি একটি নির্দিষ্ট বিধান ও সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করেছি।’(সুরা মায়িদা : ৪৮)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, ‘যদি তুমি খারাপ কাজ করে খারাপ মনে করো এবং ভালো কাজ করে ভালো লাগে—তাহলে তুমি মুমিন। কিন্তু যদি খারাপ কাজ করে ভালো লাগে আর ভালো কাজ করে খারাপ লাগে—তাহলে তুমি মুমিন হতে পার না।’ (সহিহ মুসলিম : ১৯২৭)

তাহলে নতুন বছরের প্রথম রাত কীভাবে কাটাবেন?

একজন ইমানদারের জন্য প্রতিটি দিন ও রাতই মূল্যবান। তাই বছরের প্রথম রাত উত্তাল উদযাপন বা গুনাহে কাটানো নয়; বরং কোরআন ও হাদিসের নির্দেশিত পথে কাটানোই একজন মুমিনের জন্য উত্তম।

এ রাতে একজন মুসলিম যেভাবে সময় কাটাতে পারেন—

বিগত বছরের গোনাহের জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিক তওবা করা, আত্মসমালোচনার মাধ্যমে আগামী বছরের কল্যাণ কামনা করা।

সিজদাবনত হয়ে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা—তওবা, ইস্তেগফার, দোয়া-দরুদ, নফল নামাজসহ নেক আমলে নিজেকে নিয়োজিত রাখা।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা এবং নতুন বছরকে দ্বীনি ও নৈতিকভাবে সুন্দর করার প্রতিজ্ঞা করা।

লেখক : সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ

মুহতামিম, জামিয়াতুল কোরআন, ঢাকা

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে শোকের ছায়া। শোকে বিভোর বিনোদন অঙ্গনের তারকারাও। সংগীতশিল্পী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বেবী নাজনীন শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মতো নেত্রীর শূন্যতা বাংলাদেশের মানুষ সব সময় অনুভব করবে।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে বেবী নাজনীনের শোক প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

বেগম জিয়াকে নিয়ে শোক প্রকাশ করে বেবী নাজনীন জানালেন, ‘উনার সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়েছিল উনি জেলের যাওয়ার আগে। আমি সেই মুহূর্তে বেগম জিয়ার সঙ্গে ছিলাম। আমার মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন, আমি যাচ্ছি তুমি ভালো থেকো।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও জানান, ‘তিনি বলেছিলেন তোমরা দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও। তার মধ্যে দেখেছিলাম ধীর-স্থিরতা কিন্তু বলিষ্ঠ। উনি হাঁটতে হাঁটতে জেলে চলে গেলেন। এই দৃশ্য আমি কখনও ভুলবো না।

এছাড়া খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত বেবী নাজনীন লিখিত বার্তায় জানিয়েছেন, ‘শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে যে কষ্ট দেওয়া হয়েছে, তার প্রতি যে অবিচার করা হয়েছে, এর বিচার মহান আল্লাহ অবশ্যই করবেন। তিনি দেশ এবং মানুষের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করছেন, রাজনীতির ইতিহাসে সেটা নজিরবিহীন। তার মৃত্যুর খবরে আজ বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে মানুষ, বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে সারা দেশ। মহান আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করবেন ইনশাআল্লাহ।

বেবী নাজনীন লিখেছেন, ‘মহান আল্লাহ জিয়া পরিবারকে এই শোক সইবার শক্তি দান করুন, এই মুহূর্তে আমি এই দোয়াই করি।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে লিভার ও কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস ও বিভিন্ন সংক্রমণজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।