
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে শুরু হয়েছে মহাপুরুষ বিশ্ব উরস শরীফ। সাম্য, শান্তি ও মানবিক ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশ-বিদেশ থেকে আগত লক্ষ লক্ষ আশেকান, জাকেরান ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানের অংশগ্রহণে এই উরস শরীফ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের মহাসচিব জানান, প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ব অলী হযরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.সা.) কেবল একজন জাকের নন; তিনি ছিলেন এক মহান সাধক ও মানবকল্যাণে নিবেদিত মহাপুরুষ। তাঁর স্মরণে আয়োজিত এই বিশ্ব উরস শরীফ মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়।
ফরিদপুর (কু.সা.) বেলালজান হাফেজ মহাপুরুষ বিশ্ব উরস শরীফের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উরসের কার্যক্রম সূচনা হয়। চার দিনব্যাপী এই ধর্মীয় আয়োজন ১০, ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। উরস উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত হয় তাফসিরভিত্তিক লক্ষ বক্তৃতা সমাবেশ। আগামী মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে উরস শরীফের সমাপ্তি ঘটবে।
উরস উপলক্ষে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলকে নান্দনিক ও ধর্মীয় সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। প্রতিদিন ইসলামী সংগীত, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ভোর রাত ৩টার ‘রহমতের সময়’ থেকে শুরু হয়ে এশার নামাজের পর দোয়াল দরবারে ৫০০ বার দরুদ শরীফ নজরানার মাধ্যমে দৈনিক কার্যক্রম শেষ হয়। পাশাপাশি দিনভর ধর্মীয় আলোচনা ও বিশেষ মোনাজাত চলমান থাকে।
বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের সূচনালগ্নের ইতিহাসও উরস শরীফে আলোচনায় উঠে আসে। বিশ্ব অলী হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (রহ.) ১৩৫৪ বাংলা সালে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আউটশি গ্রামে আগমন করেন। আটরশির নিকটবর্তী এলাকায় ‘জাকের কাশ্মীর’ স্থাপনের মাধ্যমে তিনি বাংলায় রাসুল (সা.)-এর সত্য তরিকার দাওয়াত প্রচার শুরু করেন।
খাজাবাবা ফরিদপুরী (রহ.) যখন প্রথম আউটশিতে আসেন, তখন সমাজব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত পশ্চাৎপদ। ইসলামী শিক্ষা ও চর্চা প্রায় অনুপস্থিত ছিল। কোরবানির ঈদের দিনও মানুষ লাঙ্গল-জোয়াল নিয়ে মাঠে যেত। সে সময় মাত্র তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আটরশিতে ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন—এই স্থানে যেন একদিন বিশাল ঈদের জামাত কায়েম হয়। আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ সেই স্থানে লক্ষ লক্ষ মানুষ একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।
হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (রহ.) ফরিদপুর জেলার গোয়ালন্দ ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবনে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দে অধ্যয়ন করেন। ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে নানা বাধার সম্মুখীন হয়ে একপর্যায়ে কলকাতা গমন করেন। যাওয়ার আগে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন এই এলাকায় তাঁর গোলামের গোলাম আগমন করবেন, যার সামনে কোনো অপশক্তি টিকতে পারবে না।
পরবর্তীতে সেই ধারাবাহিকতায় হযরত এনামতউল্লাহ (রহ.) এবং তাঁর গোলাম খাজাবাবা ফরিদপুরী (রহ.) স্থায়ী দাওয়াতের ভিত্তিতে ইসলামের হিদায়াত ও সত্য প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করেন। তাঁদের সাধনা ও ত্যাগের ফসল হিসেবেই আজ গড়ে উঠেছে পুণ্যভূমি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল।
রাসুল (সা.)-এর আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করে খাজাবাবা ফরিদপুরী (রহ.) প্রায় ৪০ বছর নীরব সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর জীবনযাপন, চরিত্র ও কর্মধারা ছিল সুন্নাহর বাস্তব প্রতিফলন যা আজও অসংখ্য মানুষের জন্য প্রেরণা হয়ে আছে।


আলাদা হচ্ছেন তাহসান খান ও রোজা আহমেদ ছবি: সংগৃহীত
ছবি ডা. তাসনিম জারা ফেসবুক থেকে নেওয়া










ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড গোয়েন্দা-দক্ষিণ) বিপ্লব কুমার সরকার। ফাইল ছবি: সংগৃহীত