রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর কলেজপাড়া এলাকায় মাঝরাতে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে সিফাত মন্ডল (১২) নামের এক শিশু। বুধবার (___) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সিফাতকে প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা এখনও শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
সিফাত স্থানীয় শফিকুল ইসলাম মন্ডলের ছেলে এবং আরএসকে ইনস্টিটিউশনের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে একটি মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকারে করে একদল দুর্বৃত্ত বিনোদপুর এলাকার ইনসান নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়িতে ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি পটকার বিস্ফোরণ ঘটায়। বিকট শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে বাইরে বের হন সিফাত ও তার বাবা। এ সময় হঠাৎ একটি গুলি এসে সিফাতের পেটের উপরের অংশে বিদ্ধ হয়। সঙ্গে সঙ্গে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
সিফাতের চাচি রুনা বেগম বলেন, “রাতে কয়েকজন লোক গেটে এসে ইনসান ইনসান বলে গালাগালি করছিল এবং জানালায় আঘাত করছিল। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনি। তখনই দেখি সিফাত মাটিতে পড়ে গেছে।”
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিফাতের বাবা শফিকুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “রাত আড়াইটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছেলেকে ভর্তি করেছি। এখনও পুরোপুরি চিকিৎসা শুরু হয়নি। ছেলেটার অবস্থা ভালো নয়। ওর সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই। পাশের বাড়ির ঘটনায় বের হয়ে এমন বিপদে পড়লো—কেন এমন হলো, বুঝতে পারছি না।”
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. রাজীব দে জানান, “শিশুটিকে গভীর রাতে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার পেটের উপরের অংশে (বক্ষ পিঞ্জরের কাছে) গুলি লেগেছে। সে সময় সে হাইপোভোলেমিক শকে ভুগছিল। প্রাথমিক চিকিৎসায় কিছুটা স্থিতিশীল করা গেলেও গুলির আঘাতে খাদ্যনালিতে ছিদ্র এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের আশঙ্কা থাকায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।”
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান জানান, “বিনোদপুর এলাকার ইনসান ও শিমুল নামের দুই ব্যক্তির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই শিমুল গ্রুপের লোকজন ইনসানের বাড়িতে হামলা চালায়। ইনসানকে না পেয়ে তারা বাড়ি ভাঙচুর ও গুলি করে। এতে প্রতিবেশী শিশু সিফাত গুলিবিদ্ধ হয়। ইনসান ও শিমুল দুজনই বিভিন্ন মামলার আসামি এবং সন্ত্রাসী প্রকৃতির। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।”
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাতে শপথ নিয়েছেন জোহরান মামদানি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শহরটির প্রথম মুসলিম হিসেবে মেয়রের দায়িত্ব নিলেন। শপথ গ্রহণের সময় তিনি এক হাত উন্মুক্ত এবং ওপর হাত রেখেছিলেন পবিত্র কোরআনের ওপর।
বৃহস্পতিবার মামদানির অভিষেক অনুষ্ঠানেও পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেওয়ার কথা আছে। নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী পরিচয় দেওয়া মামদানি বুধবার রাতে শপথ নেন পরিত্যক্ত একটি সাবওয়ে স্টেশনে। শপথ পড়ান নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রামা দুয়াজি। শপথগ্রহণের পর সাংবাদিকদের মামদানি বলেন, এটি সত্যিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও সৌভাগ্যের মুহূর্ত।
নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের মেয়াদ হয় চার বছর। মামদানির দপ্তর জানিয়েছে, শপথের জন্য সিটি হলের নিচে অবস্থিত সাধারণ স্থান বেছে নেওয়া হয়েছে কর্মজীবী মানুষের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট তরুণ রাজনীতিবিদ নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার লাগামছাড়া ব্যয় মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছর আগেও প্রায় অচেনা থাকা মামদানি তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে আছে ভাড়া স্থগিত রাখা, সার্বজনীন শিশু যত্ন ব্যবস্থা এবং বিনামূল্যে গণপরিবহন চালু। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক জন কেইন বলেন, নির্বাচন শেষ হলে প্রতীকি রাজনীতির গুরুত্ব সীমিত হয়ে যায়। তখন ভোটারদের কাছে বাস্তব ফলাফলই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
মামদানির প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচনের প্রচারের সময় ট্রাম্প মামদানির বিরোধীতা করেছিলেন। যদিও পরে তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়। তবে ভবিষ্যতে এই দুজনের মধ্যে নতুন করে বিবাদ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান অভিযান নিয়ে। নির্বাচনী প্রচারে মামদানি অভিবাসীদের সুরক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বড় পরিসরে একটি অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মামদানি। এতে বক্তব্য দেবেন বামপন্থী রাজনীতির প্রভাবশালী দুই নেতা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও।
সিটি হলের বাইরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪ হাজার অতিথি অংশ নেবেন। সেখানে নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম কোনো মেয়র পবিত্র কোরআনে হাত রেখে শপথ নেবেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শপথের জন্য দুটি কোরআন শরীফ মামদানির পারিবারিক সংগ্রহ থেকে নেওয়া। আরেকটি লেখক আরতুরো শোমবার্গের ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে ওই অবস্থাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। ৮ থেকে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং ৬ থেকে ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।
শীতের প্রকোপে আজ সকাল থেকে নগরের ভেতরে যান চলাচল কম। মানুষের চলাচলও ছিল সীমিত। অনেক দোকানপাট খুলেছে দেরিতে। নগরের জিন্দাবাজার এলাকার মুদিদোকানি খলিলুর রহমান বলেন, সাধারণত তিনি সকাল আটটার দিকে দোকান খোলেন। তবে কয়েক দিন ধরে শীত বাড়ায় সকালবেলা ক্রেতা কম থাকছে। আজ শীত আরও বেশি থাকায় দেরিতে দোকান খুলেছেন।
এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতবস্ত্রের বিক্রি বেড়েছে। কানিজ প্লাজা বিপণিবিতানের শীতের পোশাক ব্যবসায়ী আবু বক্কর বলেন, কয়েক দিন ধরে শীতের কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। সিলেটে সারা বছরই শীতের কাপড় বিক্রি হলেও সাম্প্রতিক ঠান্ডায় বিক্রি প্রায় পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, আজ সিলেটে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। জানুয়ারি সাধারণত শীতের মাস। অতীতে সিলেটে আরও কম তাপমাত্রা রেকর্ড হলেও গত কয়েক মৌসুমে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক কম ছিল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় শোকাহত লাখো মানুষ অংশ নেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনেছবি: এএফপি
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ কেবল একটি সড়ক নয়—যেন একটি গোটা বাংলাদেশ। একটি কফিন ঘিরে দলমত–নির্বিশেষে দাঁড়িয়েছিল অগণিত মানুষ। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো সেই কফিনে ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তাঁর জানাজা ঘিরে এ যেন জনতার মহাসমুদ্র।
স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের ঢল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে উপচে পড়ে। ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মানুষ জানাজায় অংশ নেয়।
রাজনীতি–সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, এত বড় জানাজা, এত সম্মান, এত মানুষের আবেগতাড়িত উপস্থিতি বাংলাদেশ আগে কখনো দেখেনি। কোনো রাজনীতিকের অন্তিম বিদায়ের এমন দৃশ্য আর কখনো দেখা যায়নি।
জনসমুদ্রে পরিণত হয় জানাজাস্থল। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
জনসমুদ্রে পরিণত হয় জানাজাস্থল। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ছবি: প্রথম আলো
পূর্বঘোষণা ছিল, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জানাজা বুধবার বেলা দুইটায় অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু দুপুর গড়ানোর আগেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। এ পরিস্থিতিতে গুলশান থেকে খালেদা জিয়ার কফিন মঞ্চে পৌঁছাতে অনেক সময় লাগে। আবার জানাজায় শরিক হতে সড়কগুলোতে মানুষের বিপুল উপস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জানাজার মূল মঞ্চে পৌঁছাতে দেরি হয়। অবশেষে এক ঘণ্টা পর বেলা তিনটার পর জানাজা শুরু হয়, শেষ হয় তিনটা পাঁচ মিনিটে। জানাজা পড়ান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল মালেক। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়াকে শেরেবাংলা নগরে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগে ‘আপসহীন নেত্রী’খ্যাত খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
সর্বস্তরের উপস্থিতি, সড়কজুড়ে মানুষ
জানাজা শেষে নিজেদের এলাকায় ফেরেন লোকজন। এ সময় নগরজুড়ে ছিল মানুষ আর মানুষ। ছবিটি কারওয়ান বাজার এলাকার। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
জানাজা শেষে নিজেদের এলাকায় ফেরেন লোকজন। এ সময় নগরজুড়ে ছিল মানুষ আর মানুষ। ছবিটি কারওয়ান বাজার এলাকার। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ছবি: প্রথম আলো
একটি মঞ্চ বানিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কফিন রাখা হয়েছিল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পশ্চিম প্রান্তে। এর পেছনে মিরপুর রোড। কফিন সামনে রেখে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, ভেতরের দুটি মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন শোকার্ত মানুষ। একপর্যায়ে জানাজায় আসা মানুষের বিস্তৃতি ছড়িয়ে যায় কফিনের পশ্চিম পাশে মিরপুর রোডের ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কে, লালমাটিয়া মাঠ, আসাদ গেট থেকে মোহাম্মদপুর টাউন হল, আগারগাঁও মেট্রোস্টেশন থেকে শ্যামলী পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় শুধু মানুষ আর মানুষ। পূর্ব পাশে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে বিজয় সরণি, আগারগাঁও, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কগুলোতে কোথাও ফাঁকা জায়গা চোখে পড়েনি। আরেক দিকে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ছাড়িয়ে যায়।
রাস্তায়, ফুটপাতে, বিভাজকের পাশে, বিভিন্ন ভবনের ছাদে, ওভারব্রিজে, মেট্রোস্টেশনে—যে যেখানে পেরেছেন দাঁড়িয়ে জানাজায় শরিক হওয়ার চেষ্টা করেছেন।
জানাজা অংশ নেওয়া এই লাখ লাখ মানুষের সবাই বিএনপির নেতা-কর্মী নন। এঁদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশাসহ অনেক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। অনেকে দূরদূরান্ত থেকে পায়ে হেঁটে এসেছেন; কেউ অজু সেরে দাঁড়িয়ে ছিলেন খোলা রাস্তায়, কেউ চোখের সামনে কফিন দেখার অপেক্ষায়। এঁদের কেউ কেউ কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে জানাজায় শরিক হন। হাঁটতে হাঁটতেই কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী আমিরুল ইসলামের সঙ্গে। শাহবাগ এলাকা থেকে হাঁটা শুরু করেছেন তিনি। আমিরুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি রাজনীতি করি না। কিন্তু একজন নেত্রী দেশের মানুষের জন্য জীবনে এত অত্যাচার সহ্য করেছেন। তাঁর জানাজায় অংশ নিতে কয়েক কিলোমিটার হাঁটব, এতে আর কষ্ট কী?’
‘খালেদা জিয়া একটা অনুভূতির নাম’
খালেদা জিয়ার ছবিসংবলিত কালো পতাকা নিয়ে জানাজায় আসেন মানুষ। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
খালেদা জিয়ার ছবিসংবলিত কালো পতাকা নিয়ে জানাজায় আসেন মানুষ। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ছবি: প্রথম আলো
জানাজা শেষ হওয়ার পর অনেক কৌতূহলী মানুষ পরস্পরের কাছে জানতে চান, কত মানুষ হয়েছে। কিন্তু এর সঠিক হিসাব দেওয়া কি সম্ভব? সাধারণত, অনেক বড় রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মসূচিতে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি হলে সেটাকে সমুদ্রের বিশালত্বের সঙ্গে তুলনা করে ‘জনসমুদ্র’ বলা হয়। খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের উপস্থিতি অতীতের সব ‘জনসমুদ্র’ ছাড়িয়ে গেছে।
রাজধানীর আরও অনেক জায়গায় অনলাইনে ও মোবাইল ফোনে সরাসরি সম্প্রচার দেখে অসংখ্য মানুষ জানাজায় অংশ নেন। রাজধানীর বাইরে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও মানুষ গায়েবানা জানাজায় শরিক হন বলে প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
ময়মনসিংহ, খুলনা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ রাতের আঁধার ভেঙে ঢাকায় এসেছেন। কেউ রাত তিনটায়, কেউ পাঁচটায় রওনা হয়েছেন—শুধু শেষশ্রদ্ধা জানাতে। রাজবাড়ী থেকে আসা জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, খালেদা জিয়া একটা অনুভূতির নাম। তিনি চলে যাবেন—এটা মেনে নেওয়ার মতো নয়।
খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে মানুষের ঢল। রাজধানীর বিজয় সরণী। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে মানুষের ঢল। রাজধানীর বিজয় সরণী। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ছবি: প্রথম আলো
জানাজা উপলক্ষে মেট্রোরেলেও ছিল উপচেপড়া ভিড়। অনেক যাত্রী একাধিকবার চেষ্টা করেও ট্রেনে উঠতে পারেননি। অনেক অপেক্ষার পর তাঁরা গন্তব্যে পৌঁছেছেন। কিন্তু স্টেশনে নেমে অধিকাংশ যাত্রী কার্ড পাঞ্চ করতে পারেননি। বহির্গমন যাত্রীদের চাপে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয় একাধিক স্টেশনে। শেষ দিকে এসে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-সংলগ্ন বিজয় সরণি, আগারগাঁও, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার মেট্রোস্টেশনের ভেতরেই অনেকে জানাজা পড়েন। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ফার্মগেটমুখী নামার অংশেও জানাজায় দাঁড়িয়েছেন এই সড়কে আসা মানুষ।