ব্রেকিং
জানুয়ারি ১০, ২০২৬

জানুয়ারি ২০২৬

জম্মুর শ্রী মাতা বৈষ্ণদেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এক্সেলেন্সে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় বজরং দলের বিক্ষোভ। তাদের দাবি, এখানে শুধু হিন্দু শিক্ষার্থীদের ভর্তি করতে হবে। ৬ জানুয়ারি ২০২৬, জম্মুছবি: এএনআই

ভারতের ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিল (এনএমসি) জম্মুতে অবস্থিত মেডিকেল কলেজ শ্রী মাতা বৈষ্ণদেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এক্সেলেন্সের স্বীকৃতি বাতিল করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এ সিদ্ধান্তকে শিক্ষার ‘সাম্প্রদায়িকীকরণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার এনএমসি ওই প্রতিষ্ঠানে এমবিবিএস কোর্সে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য ইস্যু করা লেটার অব পারমিশন (এলওপি) প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সর্বভারতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) ফলাফলের ভিত্তিতে এ কোর্সে ৫০ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের বেশির ভাগই কাশ্মীরের মুসলিম।

শ্রীনগরের সাবেক মেয়র জুনাইদ আজিম মত্তু এ সিদ্ধান্তকে ‘সাম্প্রদায়িক শক্তির তোষণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, নিট–এর মাধ্যমে ভর্তি হওয়া মুসলিম শিক্ষার্থীদের বিরোধিতাকারীদের খুশি করতেই এ পদক্ষেপ। এটি ভারতের অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনা ও সংবিধানের ওপর একটি কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। বন্দুকটি এনএমসির কাঁধে রাখা হলেও আমরা জানি, ট্রিগারটি কারা টিপেছে।

বিজেপি ও কট্টরপন্থী বিভিন্ন দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠী এই মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করার পর মেডিকেল কলেজটির স্বীকৃতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় এনএমসি। এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন রাজনৈতিক নেতারা

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দলসহ উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের দাবি, বৈষ্ণদেবী মন্দির কর্তৃপক্ষের দানের টাকায় তৈরি ওই প্রতিষ্ঠানে হিন্দু পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার থাকা উচিত। অথচ দেখা যাচ্ছে, ৫০ জনের মধ্যে ৪২ জন কাশ্মীরের ও ৮ জন জম্মুর। পড়ুয়াদের ৯০ শতাংশই মুসলমান। তাদের দাবি, ওই শিক্ষার্থীদের বদলে হিন্দু শিক্ষার্থীদের নিতে হবে। সিংহভাগ আসন হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।

জম্মু–কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) সভাপতি মেহবুবা মুফতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, এ সিদ্ধান্ত শিক্ষার সাম্প্রদায়িকীকরণের ক্ষতিকর দিক স্পষ্টভাবে উন্মোচিত করেছে। রোগের চিকিৎসা না করে এখানে রোগীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এ কলেজের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যদি এমনটা হতে পারে, তবে অন্যত্রও হবে। এতে পরিশ্রমী তরুণদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে।

ধর্ম বা অঞ্চলের ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। আমরা মন্দির–মসজিদ নিয়ে রাজনীতি দেখেছি। কিন্তু এখন মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিয়ে ধর্মীয় রাজনীতি হচ্ছে। এটি আমাদের সমাজকে হাজার বছর পিছিয়ে দেবে

জাভেদ রানা, জম্মু–কাশ্মীরের ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের জ্যেষ্ঠ নেতা ও মন্ত্রী

মেহবুবা মুফতি আরও বলেন, বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির সঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীও (ওমর আবদুল্লাহ) তাল মেলাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।

জম্মু–কাশ্মীরের ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) এ পদক্ষেপকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা ও মন্ত্রী জাভেদ রানা বলেন, ‘ধর্ম বা অঞ্চলের ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। আমরা মন্দির–মসজিদ নিয়ে রাজনীতি দেখেছি, কিন্তু এখন মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। এটি আমাদের সমাজকে হাজার বছর পিছিয়ে দেবে।’

দলের মুখপাত্র ইমরান নবী দার বলেন, এ পদক্ষেপ বিজেপির বেপরোয়া ও অসংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গিরই বহিঃপ্রকাশ। এটি সাম্প্রদায়িক মানসিকতা থেকে নেওয়া একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।

তবে বিজেপি এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে ‘সংখ্যার চেয়ে মানের প্রাধান্য’ হিসেবে দেখছে। বিজেপির বিধায়ক আর এস পাঠানিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এনএমসি এই মেডিকেল কলেজের স্বীকৃতি বাতিল করেছে। তিনি আশ্বাস দেন যে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অন্যান্য কলেজে স্থানান্তর করা হবে।

গত মঙ্গলবার এনএমসি ওই প্রতিষ্ঠানে এমবিবিএস কোর্সে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য ইস্যু করা লেটার অব পারমিশন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সর্বভারতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এ কোর্সে ৫০ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের বেশির ভাগই কাশ্মীরের মুসলিম।

শ্রীনগরের সাবেক মেয়র জুনাইদ আজিম মত্তু এ সিদ্ধান্তকে ‘সাম্প্রদায়িক শক্তির তোষণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিট–এর মাধ্যমে ভর্তি হওয়া মুসলিম শিক্ষার্থীদের বিরোধিতাকারীদের খুশি করতেই এ পদক্ষেপ। এটি ভারতের অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনা ও সংবিধানের ওপর একটি কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। বন্দুকটি এনএমসির কাঁধে রাখা হলেও আমরা জানি, ট্রিগারটি কারা টিপেছে।’

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্তজার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজছবি: বিএনপির সৌজন্যে

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ ও অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল। শুক্রবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৃথকভাবে এই দুই কূটনীতিক তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রমুখ।

দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে দুই দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি ও সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁরা খোঁজখবর নিয়েছেন।

এর আগে সন্ধ্যায় অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল ও জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা তাঁদের স্বাগত জানান। বৈঠক শেষে কূটনীতিকেরা কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করেই কার্যালয় ত্যাগ করেন।

এর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

মহিষের টক দই কিনতে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী নঈম মিয়ার হাটে বহু দূর থেকেও মানুষ দই কিনতে আসেন। বেচাবিক্রি অনেক ভালোছবি: প্রথম আলো

বিশাল বটগাছের নিচে জমে উঠেছে এক ভিন্ন রকম বাজার। সার বেঁধে বসে আছেন যুবক থেকে বৃদ্ধ। সবার সামনেই দুটি করে মাটির হাঁড়ি। একে একে ক্রেতারা এগিয়ে আসছেন। কারও হাতে প্লাস্টিকের বয়াম, কারও হাতে ছোট-বড় পাত্র। হাঁড়ির মুখ খুলে দেখা যাচ্ছে—সেই পরিচিত দৃশ্য—ঘন, সাদা ও দুধের ঘ্রাণে ভরা মহিষের টক দই।

এই চিত্র জামালপুরের সীমান্তবর্তী বকশীগঞ্জের নঈম মিয়ার হাটের। পুরোপুরি সনাতন পদ্ধতিতে ঘরে তৈরি এই টক দই। প্রায় শত বছরের পুরোনো এই দইয়ের ঐতিহ্য আজও এ জনপদের স্বাদ-সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে টিকে আছে।

উপজেলা শহর থেকে সাত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নঈম মিয়ার বিশাল হাট। গত ৮ নভেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, হাটের পূর্ব পাশে ঈদগাহ মাঠের বিশাল বটগাছ। গাছের নিচে দইয়ের হাঁড়ি নিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। উপজেলা ও জেলা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতারা এই দই কিনতে আসছেন। দরদাম ও দই ঘনত্ব দেখে ক্রেতারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত চলে এ দইয়ের হাট। সাধারণত প্রতি কেজি দই ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়।

যেভাবে তৈরি হয় মহিষের দই

কয়েকজন বিক্রেতা দই তৈরির পদ্ধতিটা জানান, গরুর দুধের মতো মহিষের দুধ দীর্ঘক্ষণ জ্বাল দেওয়ার বা আলাদা করে দইয়ের বীজ মেশানোর প্রয়োজন হয় না। প্রথমে মহিষের দুধ সংগ্রহ করা হয়। এরপর পরিষ্কার মাটির হাঁড়িতে দুধ ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এভাবেই তিন দিন রেখে দেওয়া হয়। তিন দিন পর হাঁড়ির ঢাকনা খোলার পর দই পাওয়া যায়। এর উচ্চ ফ্যাট ও ঘনত্বের কারণে এটি রেখে দিলে এমনিতেই জমে যায়। এতে খুব সহজেই মহিষের দুধের দই তৈরি হয়। কোনো কৃত্রিম উপকরণ সংযোজন, অতিরিক্ত তাপ বা রাসায়নিক ছাড়াই একদম প্রাকৃতিকভাবেই জমে দইয়ে পরিণত হয়। এতে এই দইয়ের প্রাকৃতিক স্বাদ ও বিশুদ্ধতা অটুট থাকে।

আকার অনুযায়ী প্রতিটি মাটির পাত্রে ২ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত দই তৈরি হয়। প্রতি কেজি দই উৎপাদনে এক লিটারের কিছুটা বেশি দুধের প্রয়োজন হয়। প্রতিটি মহিষ থেকে ৪ থেকে ১০ লিটার পর্যন্ত দুধ পাওয়া যায়। প্রতি কেজি দই বিক্রি হয় ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত। স্বাভাবিকভাবে এই টক দইয়ের গুণগত মান এক সপ্তাহ পর্যন্ত বজায় থাকে।

উপজেলার মালিরচর এলাকার বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘আমাদের দই একেবারে মহিষের তাজা খাঁটি দুধ দিয়ে তৈরি হয়। কোনো ভেজাল নেই। কোনো রং বা কেমিক্যাল ছাড়াই মহিষের খাঁটি দুধ দিয়ে এই দই তৈরি করা হয়। প্রথমে মাটির হাঁড়ি ভালোভাবে পরিষ্কার করে হাঁড়িতে সামান্য পরিমাণ শর্ষের তেল মেখে নিয়ে রোদ বা চুলার তাপে শুকিয়ে তাজা মহিষের দুধ ভালোভাবে ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে তারপর হাঁড়িতে রেখে দিতে হয়। তিন দিনের মধ্যে সুন্দর স্বাদের দইয়ে পরিণত হয়। একটি হাঁড়িতে ২ থেকে ১৫ লিটার পর্যন্ত দই বসানো যায়।’

নঈম মিয়ার হাটে প্রতি কেজি মহিষের টক দই বিক্রি হয় ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়
নঈম মিয়ার হাটে প্রতি কেজি মহিষের টক দই বিক্রি হয় ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়ছবি: প্রথম আলো

উৎসবে আনে পূর্ণতা

বকশীগঞ্জে মহিষ পালন করা হয়। মহিষের দুধের চেয়ে দইয়ের চাহিদা ব্যাপক হওয়ায় এ অঞ্চলে মহিষ লালন-পালনে প্রসার ঘটেছে। কোনো খামার নয়, কৃষকের বাড়িতে ও গ্রামীণ পরিবেশে পথে-প্রান্তরে সাধারণভাবেই মহিষ লালন-পালন হয়। এসব মহিষ থেকে খুবই উৎকৃষ্ট মানের দুধ উৎপাদন করা হয়, যা টক দইয়ের প্রধান উপকরণ।

এ অঞ্চলের মানুষের খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে এই দই। এটি ভাতের সঙ্গে খাওয়া হয়, চিড়া-মুড়ির সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি হয় মুখরোচক খাবার, আবার গরমের দিনে দই, পানি ও চিনি মিশিয়ে তৈরি করা হয় ঘোল, যা শরীরকে শীতল রাখে। ভাতের সঙ্গে দই ও খেজুরের গুড় এ অঞ্চলের জনপ্রিয় একটি খাবার। এ অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় থাকে এই দই। এ ছাড়া অতিথি আপ্যায়নের অন্যতম প্রধান উপাদান এটি। উৎসব-পার্বণ, বিয়েশাদি কিংবা যেকোনো সামাজিক আয়োজনে এ দই ছাড়া যেন এ অঞ্চলের কোনো উৎসব পূর্ণতা পায় না।

বহু দূর থেকে মানুষ দই কিনতে আসেন

উপজেলার বাট্টোজোড় এলাকার আবদুর রহমান প্রায় ৩৫ বছর ধরে এই হাটে মহিষের দই বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, তাঁরা নিজেরাই মহিষ লালন-পালন করেন। সেই মহিষের দুধ দিয়ে নিজেরাই দই বানান। একটি মহিষ ১০ থেকে ১২ কেজি দুধ দেয়। এখানে মহিষের দুধ খাওয়ার প্রচলন তেমন একটা নেই। এখানে সবাই মহিষের দই খান। দিন যত যাচ্ছে এই দইয়ের জনপ্রিয়তা আরও বাড়ছে। এখন হাটে বহু দূর থেকেও মানুষ দই কিনতে আসেন। বেচাবিক্রি অনেক ভালো।

উপজেলার বাঙ্গালপাড়া গ্রামের মো. যুবরাজ দুটি মাটির হাঁড়ি ভরে নঈম মিয়ার দই নিয়ে বাজারে এসেছেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর একটি হাঁড়ির পুরো দই বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘শত বছর ধরে এই হাটে দই বিক্রি চলে। আমার দাদা ও পরে বাবা এবং এখন আমি এই দই বিক্রি করছি। প্রতি হাটে ১০–১৫ মণ দই বিক্রি করি। এই দই সবার সেরা। এই বাজারে শুধু মহিষের দই পাওয়া যায়। এই দই ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুড়িগ্রাম, রাজীবপুর, শেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। এই দইয়ের খ্যাতি এখন দেশজুড়েই রয়েছে।’

জামালপুর শহর থেকে নঈম মিয়ার হাটে দই কিনতে এসেছেন আজাদ মিয়া (৪৫)। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানও রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই বাজারের মহিষের টক দইয়ের নাম অনেকের মুখেই শুনেছি। প্রতিবেশী একজন প্রায়ই এই দই কিনে নিয়ে যান। তাঁরা আমাদের বাসায় দিয়েছিলেন। খেতে অসাধারণ লাগে। আজ অফিস বন্ধের দিনে ঘুরতে ঘুরতে চলে এসেছি দই কিনতে।’

গত বছরের চেয়ে ছুটি কমেছেছবি: প্রথম আলো

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি বছর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর (প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল) সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনিবার) মোট ৬৪ দিন। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এ বছর ১২ দিন ছুটি কমানো হয়েছে। গত বছর (২০২৫) ছুটি ছিল ৭৬ দিন। এবার রোজার অর্ধেক সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ও খোলা থাকবে।

ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ মার্চ থেকে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু, তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকেই রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে রমজান শুরু হলেও ২১ রমজান পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা থাকবে।

২০২৫ শিক্ষাবর্ষে পবিত্র রমজান, শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব, স্বাধীনতা দিবস, জুমাতুল বিদা, শবে কদর ও ঈদুল ফিতর মিলিয়ে মোট ২৮ দিন ছুটি ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে এসব দিবস উপলক্ষে ছুটি কমিয়ে ১৯ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ মিলিয়ে ছুটি ১৫ দিনের থেকে ছুটি কমিয়ে ১২ দিন করা হয়েছে। একইভাবে শীতকালীন অবকাশও ১ দিন কমিয়ে ১০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬, কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ, কিছু কেন্দ্র ও ভেন্যু বাতিল

২০২৬ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু ছুটি

রমজান, ঈদুল ফিতরসহ টানা ১৯ দিন, ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে ১২ দিন, দুর্গাপূজায় ৫ দিন, শীতকালীন অবকাশে ১০ দিন।

চলতি বছরের এ ছুটি থাকছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়-প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক পৃথক ছুটি তালিকা প্রকাশ করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল পাওয়ায় বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন— বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু এবং জেলা কমিটির সদস্য মমিন আলী।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে এ সিদ্ধান্ত দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, যাচাইয়ের সময় দাখিল করা মনোনয়নপত্রে সমর্থনকারী ভোটারদের স্বাক্ষরের সঙ্গে তালিকাভুক্ত তথ্যের অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়। ফলে নির্বাচন বিধি অনুযায়ী তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

এদিকে একই যাচাই-বাছাইয়ে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন—

  • বিএনপির প্রার্থী ও সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মো. আব্দুল্লাহ

  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আতিকুর রহমান

  • জামায়াতে ইসলামীর এ কে এম ফখরুদ্দিন রাজী

  • কমিউনিস্ট পার্টির আব্দুর রহমান

  • ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী রোকেয়া আক্তার

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র আরও জানায়, বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল করার সুযোগ থাকবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক যুবাইর বিন নেছারী, যিনি এ বি জুবায়ের নামেই পরিচিত, ছাত্রদলকে নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ ও আফসোস প্রকাশ করেছেন।

গতকাল নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবর রহমান হলের ছাত্রদল শাখা একটি শোক ব্যানার টাঙায়। তবে ব্যানারটিতে এখনো ‘শেখ মুজিবর রহমান হল’ নাম ব্যবহার করায় বিতর্ক তৈরি হয়। উল্লেখ্য, এর আগে শিক্ষার্থীরা ওই হলের নাম পরিবর্তন করে ‘ওসমান হাদি হল’ নামকরণ করেন।

এই ব্যানারকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন এ বি জুবায়ের। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “আজকের দিনে এসব নিয়ে কথা বলার ইচ্ছা ছিল না।” এরপর ব্যানারের ছবি তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফ্যাসিবাদের প্রতীক হিসেবে শেখ মুজিবের নাম মুছে দিয়ে ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আইকন শহীদ ওসমান হাদির নামে হলটির নামকরণ করেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডাকসুর পক্ষ থেকেও প্রশাসনিকভাবে হলের নাম পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে।

শেখ মুজিবকে ‘ফ্যাসিবাদের আইকন’ আখ্যা দিয়ে এ বি জুবায়ের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস থেকে ফ্যাসিবাদের চিহ্ন মুছে দিতে একমত হলেও ছাত্রদল এতে একমত নয়। তার ভাষায়, ছাত্রদলের কাছে শহীদ ওসমান হাদির চেয়ে শেখ মুজিবের নামই যেন বেশি গ্রহণযোগ্য।

পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, মেজর জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। অথচ মেজর জিয়ার হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রদলই আজ ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী শহীদ ওসমান হাদিকে স্বীকৃতি দিতে অনীহা দেখাচ্ছে।

ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড গোয়েন্দা-দক্ষিণ) বিপ্লব কুমার সরকার। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও তাঁর স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমের নামে থাকা ২৮টি ব্যাংক হিসাব এবং দুটি বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।

এদিন দুদকের পক্ষে সহকারী পরিচালক রাসেল রনি আদালতে ব্যাংক ও বিও হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, বিপ্লব কুমার সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিজীবী হয়েও ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে সম্পত্তি অর্জনসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।

দুদকের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অবৈধভাবে অর্জিত আয়ের উৎস আড়াল করার উদ্দেশ্যে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বর্তমানে অভিযুক্তদের ব্যাংক ও বিও হিসাব থেকে অর্থ অন্যত্র স্থানান্তর বা বেহাত করার আশঙ্কা রয়েছে। এসব সম্পদ স্থানান্তর হয়ে গেলে ভবিষ্যতে তা উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ কারণে হিসাবগুলো থেকে অর্থ উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করা জরুরি।

এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর একই আদালত বিপ্লব কুমার সরকার, তাঁর স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম, ভাই প্রণয় কুমার সরকার এবং শ্যালিকা শাহানারা বেগমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর কলেজপাড়া এলাকায় মাঝরাতে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে সিফাত মন্ডল (১২) নামের এক শিশু। বুধবার (___) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সিফাতকে প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা এখনও শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

সিফাত স্থানীয় শফিকুল ইসলাম মন্ডলের ছেলে এবং আরএসকে ইনস্টিটিউশনের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে একটি মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকারে করে একদল দুর্বৃত্ত বিনোদপুর এলাকার ইনসান নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়িতে ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি পটকার বিস্ফোরণ ঘটায়। বিকট শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে বাইরে বের হন সিফাত ও তার বাবা। এ সময় হঠাৎ একটি গুলি এসে সিফাতের পেটের উপরের অংশে বিদ্ধ হয়। সঙ্গে সঙ্গে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

সিফাতের চাচি রুনা বেগম বলেন,
“রাতে কয়েকজন লোক গেটে এসে ইনসান ইনসান বলে গালাগালি করছিল এবং জানালায় আঘাত করছিল। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনি। তখনই দেখি সিফাত মাটিতে পড়ে গেছে।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিফাতের বাবা শফিকুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“রাত আড়াইটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছেলেকে ভর্তি করেছি। এখনও পুরোপুরি চিকিৎসা শুরু হয়নি। ছেলেটার অবস্থা ভালো নয়। ওর সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই। পাশের বাড়ির ঘটনায় বের হয়ে এমন বিপদে পড়লো—কেন এমন হলো, বুঝতে পারছি না।”

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. রাজীব দে জানান,
“শিশুটিকে গভীর রাতে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার পেটের উপরের অংশে (বক্ষ পিঞ্জরের কাছে) গুলি লেগেছে। সে সময় সে হাইপোভোলেমিক শকে ভুগছিল। প্রাথমিক চিকিৎসায় কিছুটা স্থিতিশীল করা গেলেও গুলির আঘাতে খাদ্যনালিতে ছিদ্র এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের আশঙ্কা থাকায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।”

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান জানান,
“বিনোদপুর এলাকার ইনসান ও শিমুল নামের দুই ব্যক্তির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই শিমুল গ্রুপের লোকজন ইনসানের বাড়িতে হামলা চালায়। ইনসানকে না পেয়ে তারা বাড়ি ভাঙচুর ও গুলি করে। এতে প্রতিবেশী শিশু সিফাত গুলিবিদ্ধ হয়। ইনসান ও শিমুল দুজনই বিভিন্ন মামলার আসামি এবং সন্ত্রাসী প্রকৃতির। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।”


নিউইয়র্কের পরিত্যক্ত একটি সাবওয়ে স্টেশনে শপথ নেন জোহরান মামদানি। ছবি: এএফপি

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাতে শপথ নিয়েছেন জোহরান মামদানি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শহরটির প্রথম মুসলিম হিসেবে মেয়রের দায়িত্ব নিলেন। শপথ গ্রহণের সময় তিনি এক হাত উন্মুক্ত এবং ওপর হাত রেখেছিলেন পবিত্র কোরআনের ওপর।

বৃহস্পতিবার মামদানির অভিষেক অনুষ্ঠানেও পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেওয়ার কথা আছে। নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী পরিচয় দেওয়া মামদানি বুধবার রাতে শপথ নেন পরিত্যক্ত একটি সাবওয়ে স্টেশনে। শপথ পড়ান নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রামা দুয়াজি। শপথগ্রহণের পর সাংবাদিকদের মামদানি বলেন, এটি সত্যিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও সৌভাগ্যের মুহূর্ত।

নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের মেয়াদ হয় চার বছর। মামদানির দপ্তর জানিয়েছে, শপথের জন্য সিটি হলের নিচে অবস্থিত সাধারণ স্থান বেছে নেওয়া হয়েছে কর্মজীবী মানুষের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট তরুণ রাজনীতিবিদ নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার লাগামছাড়া ব্যয় মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছর আগেও প্রায় অচেনা থাকা মামদানি তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে আছে ভাড়া স্থগিত রাখা, সার্বজনীন শিশু যত্ন ব্যবস্থা এবং বিনামূল্যে গণপরিবহন চালু। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক জন কেইন বলেন, নির্বাচন শেষ হলে প্রতীকি রাজনীতির গুরুত্ব সীমিত হয়ে যায়। তখন ভোটারদের কাছে বাস্তব ফলাফলই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মামদানির প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচনের প্রচারের সময় ট্রাম্প মামদানির বিরোধীতা করেছিলেন। যদিও পরে তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়। তবে ভবিষ্যতে এই দুজনের মধ্যে নতুন করে বিবাদ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান অভিযান নিয়ে। নির্বাচনী প্রচারে মামদানি অভিবাসীদের সুরক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বড় পরিসরে একটি অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মামদানি। এতে বক্তব্য দেবেন বামপন্থী রাজনীতির প্রভাবশালী দুই নেতা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও।

সিটি হলের বাইরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪ হাজার অতিথি অংশ নেবেন। সেখানে নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম কোনো মেয়র পবিত্র কোরআনে হাত রেখে শপথ নেবেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শপথের জন্য দুটি কোরআন শরীফ মামদানির পারিবারিক সংগ্রহ থেকে নেওয়া। আরেকটি লেখক আরতুরো শোমবার্গের ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে ওই অবস্থাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। ৮ থেকে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং ৬ থেকে ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।

শীতের প্রকোপে আজ সকাল থেকে নগরের ভেতরে যান চলাচল কম। মানুষের চলাচলও ছিল সীমিত। অনেক দোকানপাট খুলেছে দেরিতে। নগরের জিন্দাবাজার এলাকার মুদিদোকানি খলিলুর রহমান বলেন, সাধারণত তিনি সকাল আটটার দিকে দোকান খোলেন। তবে কয়েক দিন ধরে শীত বাড়ায় সকালবেলা ক্রেতা কম থাকছে। আজ শীত আরও বেশি থাকায় দেরিতে দোকান খুলেছেন।

এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতবস্ত্রের বিক্রি বেড়েছে। কানিজ প্লাজা বিপণিবিতানের শীতের পোশাক ব্যবসায়ী আবু বক্কর বলেন, কয়েক দিন ধরে শীতের কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। সিলেটে সারা বছরই শীতের কাপড় বিক্রি হলেও সাম্প্রতিক ঠান্ডায় বিক্রি প্রায় পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, আজ সিলেটে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। জানুয়ারি সাধারণত শীতের মাস। অতীতে সিলেটে আরও কম তাপমাত্রা রেকর্ড হলেও গত কয়েক মৌসুমে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক কম ছিল।